বছরের অন্যান্য সময় শ্রীমঙ্গল সুন্দর থাকলেও বর্ষায় প্রকৃতি যেন তার প্রাণ ফিরে পায়। আপনি যদি রোমাঞ্চপ্রিয় হন এবং প্রকৃতির খাঁটি রূপ দেখতে ভালোবাসেন তবে বর্ষাকালই ( Sreemangal Tour in rainy season ) হবে আপনার জন্য ভ্রমণের সেরা সময়। বর্ষায় শ্রীমঙ্গল ভ্রমণে কেন যাওয়া উচিৎ তার যৌক্তিক কয়েকটি কারণ নিচে তুলে ধরা হল।
সবুজের তীব্রতা ও সতেজতা
বৃষ্টির ছোঁয়ায় প্রকৃতিতে প্রাণ নতুন রূপে ফিরে ফলে মাইলের পর মাইল বিস্তৃত পাহাড়ি চা বাগানগুলো গাঢ় সবুজ গালিচায় রূপ নেয়। এই সময়ে নতুন কুঁড়ি ও পাতা গজানোর জন্য চারপাশ বেশ সতেজ ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠে।
রেইনফরেস্ট ও লেকের আসল রূপ
বর্ষায় লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান তার প্রকৃত রেইনফরেস্টের রূপে ফিরে আসে । ঘন বনে গাছের পাতায় টুপটুপ বৃষ্টির শব্দ, ভেজা মাটির সুধাগন্ধ আর বন্যপ্রাণীদের আনাগোনায় এক অপার্থিব পরিবেশ তৈরি হয়। তখন পাহাড় ঘেরা লেক বর্ষার পানিতে কানায় কানায় পূর্ণ থাকে। সেখানে জলের উপর ফুটা শাপলা ফুলের দৃশ্য এক জাদুকরী পরিবেশের সৃষ্টি করে।
পাহাড়ি ছড়া ও ঝরণার তীব্র গর্জন
বর্ষায় পাহাড়ি ঝরণা ও ছড়ায় পূর্ণ যৌবন ফিরে আসে, তখনই বয়ে চলা জলধারায় জলের গান শুনার সেরা সময়।
ঝুম বৃষ্টিতে বিলাসী অবসর
বর্ষায় শ্রীমঙ্গলে বৃষ্টি শুরু হলে যেন থামতেই চায় না, এই সময় নির্জন পাহাড়ি রিসোর্টের কোন বান্দায় বসে বাগানের তাজা ধোঁয়া উঠা গরম চা‘য়ে মুখ দিয়ে বৃষ্টি দেখতে দেখতে রোমাঞ্চকর বিলাসী অবসর জীবনের সেরা মূহূর্ত হয়ে থাকে।
কম ভিড় ও সাশ্রয়ী ভ্রমণ
পর্যটকদের ভিড় কম থাকায় প্রকৃতির শান্ত ও নীরব পরিবেশ খুব কাছে থেকে অনুভব করা যায়। ভালোমানের রিসোর্টগুলো তখন রুম ভাড়ার সাথে অনেক মূল্য ছাড় দিয়ে থাকে । খাবার হোটেল, লোকাল পরিবহনেও বেশ অর্থ সাশ্রয় হয়।
বিশেষ সর্তকতা
- বৃষ্টি থেকে বাঁচতে সাথে রেইনকোট, ছাতা রাখুন এবং ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস সুরক্ষায় ওয়াটারপ্রুফ ব্যাগ রাখা জরুরি প্রয়োজন।
- ট্রকিংয়ের সময় জোঁকের উপদ্রব ও পোকার কামড় থেকে বাঁচতে ফুল প্যান্ট, ঢাকা জুতা, ওডমোস সাথে রাখুন।
- পাহাড় ও বনের ভেতরের রাস্তায় পিচ্ছিল হতে পারে তাই অতিরিক্ত ঝুকিপূর্ণ ট্রকিং এড়িয়ে চলুন।
- ঝরণা, গিরিপথ ও পাহাড়ি ছড়ায় হরকাবান হতে পারে তাই বিশেষ সতর্ক থাকুন।